মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১১ অক্টোবর ২০২০

পুষ্টিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনই এখন চ্যালেঞ্জ: কৃষিমন্ত্রী


প্রকাশন তারিখ : 2020-10-11

পুষ্টিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনই এখন চ্যালেঞ্জ: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দানাজাতীয় খাদ্যে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই খাদ্যের উৎপাদন চারগুণ বেড়েছে। আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ এখন পুষ্টিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা।

 

 

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) ও ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘কোভিড পরবর্তী বাংলাদেশে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা: চ্যালেঞ্জ ও সমাধান’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এখন কারও আয় থাকলে না খেয়ে থাকে না। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীমূলক প্রোগ্রাম রয়েছে। দরিদ্ররাও খাদ্য পাচ্ছে। করোনায় আমরা প্রচুর সাহায্য করেছি। সাধারণ মানুষও যাদের আয় কম, তারাও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু এই আয় দিয়ে মানুষ পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারছে কি না, এটি একটি বিষয়। গ্রামের মানুষের ডিম, দুধ, মাছ, মাংস কেনার মতো পর্যাপ্ত টাকা নেই। ডিম বিক্রি করে অনেকে অন্য বাজার করছে, দুধ বিক্রি করে সংসার চালায়। তাই পুষ্টির বিষয়টি এই মুহূর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টি শুধু করোনার কারণে নয়, আগে থেকেই এটি একটি বড় সমস্যা। সরকারের ২১টি লক্ষ্যের মধ্যে এটি একটি।’

তিনি বলেন, ‘গত এক থেকে দেড় বছর ধরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে না। ১২০ টাকা কেজি ব্রয়লার মুরগি। অথচ দেশি মুরগির দাম অনেক বেশি। সারাদেশ থেকে ব্রয়লার মুরগি স্যাম্পল নিয়ে টেস্ট করা দরকার। কারণ এখনও ব্রয়লার মুরগি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বলা হয় ব্রয়লার মুরগিকে ট্যানারির ফিড খাওয়ানো হয়। তাই ব্রয়লার মুরগিকে মানুষের কাছে কীভাবে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করা যায় আমাদের সেই উদ্যোগ নিতে হবে।’

আন্তর্জাতিক কয়েকটি গবেষণার বরাদ দিয়ে আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, ‘করেনা পরবর্তী সময়ে নিম্ন আয় ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে কোভিড পরবর্তী সময়ে গড়ে মাথাপিছু আয় কমবে চার শতাংশ, অপুষ্টির হার বাড়বে ১৪ শতাংশ এবং পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুমৃত্যু হবে এক লাখ ২৪ হাজার।’

ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘করোনাকালে আমরা ভুল এবং সঠিক দুই ধরণের তথ্যই দেখেছি। আমরা মনে করি বিজ্ঞানভিত্তিক সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমেই মানুষ খাদ্য পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সঠিক ধারণা নিয়ে নিজে ভালো থাকতে পারে এবং অন্যকে ভালো রাখতে পারে।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব নিউট্রেশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্সের অধ্যাপক মো. শহিদুল আরেফিন। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, কোভিড-১৯-এর কারণে সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ায় খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন খাদ্যের দামও বেড়েছে বলে জানা গেছে। করোনার সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খাদ্যের সাপ্লাই চেইন। বিশ্বব্যাপীই এই সাপ্লাই চেইনের ক্ষতি হয়েছে। অনেকে প্যানিক বায়িং করেছে। এর প্রভাবে করোনার পরে খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। যার প্রভাবে এখন বাজারে খাদ্যের দামও বেড়েছে। করেনার সময়ে কৃষক ও নিম্ন শ্রেণির মানুষের আয় কমেছে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষকে খাদ্য কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আয় কমার কারণে মূল খাবার কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে তারা পুষ্টিকর খাবারের দিকে গুরুত্ব দিতে পারছে না।

করেনার সময়ে কৃষকরা নানা ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে উল্লেখ করে প্রবন্ধে বলা হয়, বীজ ও সারের দোকান বন্ধ থাকার কারণে ফসল উৎপাদন বিঘ্নিত হয়েছে। শ্রমিকের সংকট তৈরি হয়েছিল। এসব কারণে কৃষি পণ্যের সরবরাহ অনেক কমে যায়।

প্রবন্ধে কোভিড পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কয়েকটি সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে সামাজিক কর্মসূচির আওতায় খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ, স্টোরেজ সিস্টেম ডেভেলপ করা, সাপ্লাই চেইন শাক্তিশালী করা, খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো, হার্ভেস্ট পরবর্তী উৎপাদিত খাদ্য নষ্টের পরিমাণ কমিয়ে আনা, কৃষকদের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় অর্থ সহায়তা দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া।

বারটানের নির্বাহী পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান ও বারটানের পরিচালক কাজী আবুল কালাম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

সুত্রঃ সারাবাংলা/ইএইচটি/পিটিএম


Share with :

Facebook Facebook